চট্টগ্রাম   শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১  

শিরোনাম

সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে যুবলীগ নেতার ইজারা আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৬:১২ পিএম, ২০২১-০৫-০৪

সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে যুবলীগ নেতার ইজারা আদায়

কেরানীহাট বাজারের ইজারাদার টানা দুইবার সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে বাজার থেকে নিয়মিত ইজারা আদায় করছেন।  এতে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বাজারের পূর্ণমেয়াদ শেষ করেছেন ইজারাদার উত্তর সাতকানিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ওচমান আলী। উপজেলা প্রশাসন ইজারাদারকে বারবার অর্থ পরিশোধে তাগিদ দিলে একদিকে বকেয়া পরিশোধে গড়িমসি করছেন। 

অন্যদিকে লোকসান দেখিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে রাজস্ব মওকুফের আবেদন করেছেন। অথচ এ বছরও সর্বোচ্চ দর তুলে আবারও লুফে নিয়েছেন ইজারা। যদিও তিনি বকেয়া পরিশোধ না করায় ইজারা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারিয়েছেন তিনি। 

স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি এখন অনেকটা প্রশাসন ও ইজারাদারের মধ্যে অর্থ লোপাটের খেলা। 

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারকে টাকা না দিয়ে আমাদের থেকে চাঁদা আদায় করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে প্রশাসনও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাহলে আমাদের প্রদানকৃত টাকা যাচ্ছে কোথায়।

জানা যায়, বিগত ১৪২৭ বাংলা সনে সাতকানিয়া উপজেলার অন্যান্য বাজারের মত জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে দরপত্র আহ্বান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সর্বোচ্চ দর দাতা হিসাবে বাজারের ইজারা পান যুবলীগ নেতা ওচমান আলী। বিগত বছর বাজারের পূর্ণাঙ্গ মূল্য নির্ধারণ হয় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করেছেন ৬৫ লাখ টাকা। বাকি ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ না করে বাজারের মেয়াদকাল শেষ করে ইজারা আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন ইজারাদার। ইতোমধ্যে নতুন করে বাজারের ইজারা উত্তোলনের মেয়াদ শেষ হলে ১৪২৮ বাংলা সনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে পুনরায় বাজারের দরপত্র আহ্বান করেন। 

সেখানেও ইজারাদার ওচমান আলী দরপত্র দাখিল করেন। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে তিনি পুনরায় কেরানীহাট বাজারের ইজারা পান। এতে সর্বসার্কুল্যে ইজারার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৯০ লাখ টাকা ইজারা বাবদ পরিশোধ করলেও পূর্বের ন্যায় বাকি টাকা এখনো অপরিশোধিত। পুনরায় ইজারা উত্তোলনের জন্য ইউএনও’র কোন কার্যাদেশ না পেয়ে (গত রবিবার ছিল কেরানীহাট বাজার বসার দিন) এখনো পর্যন্ত ইজারা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন ওই যুবলীগ নেতা। এ নিয়ে সাতকানিয়ায় সর্বমহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা বলেন, ‘সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে ফাঁকি দেয়া গর্হিত অপরাধ। রাজস্বের টাকা দিয়ে একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতির ভীত মজবুত হয়। অথচ রাজস্বের টাকা পরিশোধ না করে কিভাবে তিনি যুবলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে পুনরায় ইজারা নেন? এবছরও কিভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ইজারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন যা অনেক অমিমাংসিত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’ এছাড়া পুরো রাজস্ব ফাঁকির এ কার্যক্রমের সাথে জড়িত চক্রটিকে খুঁজে বের করারও দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা প্রতিবাজারে হাসিল (ইজারা) তুলতে আসলেই নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে দিচ্ছি। হাসিল আদায়কারী বলেন- টাকাগুলো নাকি সরকারকে দিতে হবে। কিন্তু এখন যদি সরকারকে না দিয়ে নিজেরা নিজেরা খায়, তবে সেটি তো চাঁদাবাজি হয়ে গেল। আবার টাকা না দিলেও তো আমাদেরকে ভয়ভীতি-হুমকি প্রদান করবে। কারন তারা আ’লীগ নেতা। তখন শান্তিতে আর ব্যবসাও করতে পারবো না। 

এ বিষয়ে জানতে ইজারাদার ওচমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে বাজারের ইজারা উত্তোলনে লোকসান হওয়ায় ১৪২৭ বাংলা সনের টাকা মওকুফের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছি। আবেদনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় এখনো বকেয়াগুলো পরিশোধ করা হয়নি।’ 

বিগত বছর ও চলতি বছরের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করে কিভাবে ইজারা আদায় অব্যাহত রেখেছেন এমন প্রশ্নে ওচমান আলী বলেন, ‘চলতি বছরও করোনার কারণে অফিসিয়াল কাজ চলেনি। এবারও যেহেতু ৯০ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেয়া আছে, তাই রানিং ইজারাদার হিসেবে ইজারা উত্তোলন করছি।’ কিন্তু গত বছর করোনার লোকসান গুনেও গেল বছরের কম বেশি টাকা দিয়ে পুনরায় ইজারা নিয়েছেন এ প্রশ্নের জবাব ছিল অস্পষ্ট।

ইজারার বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম সাতকানিয়া প্রতিদিনকে বলেন, গত বছরে সব টাকা আদায় না হওয়ার কারণে সরকার এই বছরের ইজারা আটকিয়ে রাখা হয়েছে। যদি গতবছরে সব টাকা আদায় করতে পারে তবে ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদেরকে এক মাস সময় দিয়েছি। এ একমাসের মধ্যে যেন সব টাকা আদায় করে। টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হলে, আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ইউএনও আরও বলেন, বর্তমানে ইজারাদার যদি ব্যবসায়ীদের থেকে ইজারার নামে যদি টাকা আদায় করে বা এমন কোন অভিযোগ পাই, তবে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি সাতকানিয়া উপজেলাতে এসেছি মাত্র একমাস  হয়েছে। সেজন্য অনেক কিছু সম্পর্কে এখনো অবগত হতে পারিনি। তবে একমাসের ভিতরে সাতকানিয়া উপজেলার ৭টি বাজারের ইজারার টাকা বাকি ছিল, আমি ৫টি বাজার থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছি।

রিটেলেড নিউজ

সাংসদ নজরুলের সাথে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত

সাংসদ নজরুলের সাথে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন নবগঠিত উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজে...বিস্তারিত


সাতকানিয়ায় গৃহবধূকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে হামলা

সাতকানিয়ায় গৃহবধূকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে হামলা

রমজান আলী : সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নে তেমুহনী (বোবার বাপের বাড়ি) এলাকায় গত ২০ জানুয়ারি দুপুর ৩ টায় শাহ...বিস্তারিত


কেঁওচিয়া সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠন

কেঁওচিয়া সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী অধ্যাপক আহসান মৌলাকে আহ্বায়ক ও মুরশেদ আলমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে কে...বিস্তারিত


কেরানীহাট মাদ্রাসার সভাপতি হলেন সাংবাদিক আবু সুফিয়ান

কেরানীহাট মাদ্রাসার সভাপতি হলেন সাংবাদিক আবু সুফিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেরানীহাট জামেউল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মা...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

সাতকানিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী কোতোয়ালিতে ধরা

সাতকানিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী কোতোয়ালিতে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই হাজার পিচ ইয়াবাসহ হাতেনাতে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত আর...বিস্তারিত


বারদোনায় মুসল্লিদের বিরুদ্ধে মামলা

বারদোনায় মুসল্লিদের বিরুদ্ধে মামলা

: উপজেলার বারদোনা মছন আলী সওদাগর ওয়াকফ স্টেট মৌলা পাড়া জামে মসজিদের সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে মাটি কে...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর